| |

এল মোবাইল গেম ‘বিজ্ঞানের রাজ্যে’

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যসূচির ওপর তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষামূলক গেম ‘বিজ্ঞানের রাজ্যে’। গেমটি তৈরি করেছে ড্রিম ৭১ নামের গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। আজ শনিবার সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শিক্ষাসহায়ক তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় এ গেম উন্মোচন করা হয়। একুশে গ্রন্থমেলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচি এ প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেছে।

ড্রিম ৭১-এর প্রধান নির্বাহী রাশাদ কবির বলেন, গেমটিতে শিক্ষার্থীরা খেলার ছলে বিজ্ঞান শিখতে পারবে। বিজ্ঞানের রাজ্যে গেমটি সফলতা পাবে। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও সহজ ও প্রাণবন্ত করে তোলাই বিজ্ঞানের রাজ্যে গেমটির উদ্দেশ্য। পাঠ্যসূচির আলোকে নির্মিত হলেও গেমিফিকেশনের মাধ্যমে পাঠ্যসূচির বিষয়বস্তুকে এ গেমে ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন ধাঁচে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন চরিত্র, বস্তু, দৃশ্য, প্রেক্ষাপট, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট আর অডিও ইফেক্টের মাধ্যমে গেমের বিষয়বস্তুগুলোকে অনেক আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। বিজ্ঞানের রাজ্যে গেমটি শিক্ষার্থীদের মনে অনাবিল আনন্দ জোগাবে। অন্যদিকে, শিক্ষার এক অনন্য উপকরণও হয়ে উঠবে।

রাশাদ কবির আরও বলেন, গেমের একটি ধাপ সম্পন্ন করলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। এভাবে ক্রমাগত বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করার মাধ্যমে তারা আলোচ্য বিষয়বস্তুগুলোর গভীরে যেতে পারবে। খেলার ছলে বিজ্ঞানের নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে। গেমটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের জটিল থেকে জটিলতর ধাঁধার মতো বিষয়গুলোও খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পারবে। শিক্ষার প্রয়োগ ও ব্যবহারিক শিক্ষা সম্পর্কেও ধারণা পাবে শিক্ষার্থীরা। মূলত ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই গেম অ্যাপটি ডেভেলপ করা হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।

আজ সকালে শিক্ষাসহায়ক তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বোঝানো যে তোমরা বই পড়ো।’

অনুষ্ঠানে এটুআই কর্মসূচির পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা অন্য দুটি প্রকল্প হচ্ছে প্রাক্‌-প্রাথমিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অগমেন্টেড রিয়্যালিটিভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতি’ এবং অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যানিমেটেড কনটেন্ট ‘হাতের মুঠোয় বিজ্ঞান’।

সূত্র: প্রথম আলো