| |

বাবাকে নিয়ে কিছু কথা

কেশব করঃ আমার বাবার জীবনাবসানের চৌদ্দ বছরের কিছু বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে । সময়ের বিচারে এক যুগেরও অধিক কাল । তবু আমি বিশ্বাস করি না বাবাকে ছাড়া এতোগুলো বছর কেটেছে আমার । আমার ভেতরের মানুষটার খুব গভীরের এক জায়গায় তাঁর নিরুদ্বেগ বাস । আমি তাঁরে পাই , এতোটাই পাই যে যতোটা আমি তাঁরে আগে কখনো পাইনি । তিনি তাঁর সমস্থ শক্তি দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছেন যেন পড়ে না যাই । বলছেন,আমি আছি তোর সাথে কর্তব্য সম্পাদন করে যা ।  বাবা, আমি শেষ পর্যন্ত জয়ী হবো তো ? এ রকম সংশয় মার্কা প্রশ্নে , বাবার ভ্রু কুঁচকানো বিরক্তি লক্ষ্য করি বলেন , সংশয় করবি না , দ্বিধাকে বিদায় । মা হওয়া যেমন মুখের কথা নয় , তেমনি বাবা হওয়াটাও । সবাই বাবা হতে পারে না কিংবা যদি অন্য ভাবে বলি ঔরশ সৃষ্টিই বাবা হওয়া নয় । প্রকৃত প্রস্তাবে যিনি বাবা হবেন তাকে বাবার মতই হতে হবে । স্নেহ , ভালোবাসা , কর্তব্য, দায়িত্ব , নিষ্ঠা সর্বোপরি সততা দ্বারা তিনি হবেন আপদমস্তক অবগুণ্ঠিত । নাম মাত্র বাবা হলে তিনিই যে তার বাবা সেটি বলতেও সেই বাবার লজ্জা হবে । নিজ শক্তি ও সামর্থ অনুযায়ী সন্তানের প্রতি স্বীয় কর্তব্য পালনের চেষ্টাই বাবাকে বাবা করে তোলে। আমার বাবা আমাদের জন্য অর্থাৎ আমাদের ভাই বোনদের জন্য দেহাবসানের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ভেবেছেন অনেক রকম ঝুঁকি নিয়েছেন। ব্যবসায়ী মানুষ ঝুঁকিটাকে ঝুঁকি মনে করেনি কখনো । বাসায় ফিরতে কারো দেরী হলে তিনি উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়তেন । এখন বাবার উৎকণ্ঠা আমরা ধারণ করে বাবাকে আমাদের মধ্যে পাই বাবার মতই । কারণ আমরাও যে এখন বাবার রোল করছি । বাবা দিবস, মা দিবস , কোনো দিবসের রং তুলিতে আমি বাবাকে মাকে আঁকি না । আমার জন্য প্রতিটি দিন প্রতিটি ক্ষণ, শুধু আমার জন্য বলি কেন সকলের জন্যই মা বাবাকে ঘিরে প্রতিটি পলক আবর্তিত হোক । বাবা দিবস নামে একটা দিবস যেহেতু করাই হয়েছে তাই এই দিনটিতে আসুন অঙ্গীকার করি যথার্থ বাবা হই বাবাতেই লীন হই ।