| |

ঈদ এবং আজকের বাস্তবতা

কেশব করঃ একদিন কমবেশি প্রায় এক মাস রোজা বা উপবাস শেষে ঈদ-উল-ফিতর উদ্যাপিত হয় । এই ঈদ মহামিলনের একটি দিন। মহা উৎসবের একটি দিন। ধনী গরীবের ব্যবধান ভুলে গিয়ে সবাই আনন্দে মেতে উঠবে এই দিনটিতে। ঈদ একটি দিনের হলেও এর রেশ থাকে বেশ কয়েকদিন ! দিনটিতে সবাই যথাসাধ্য চেষ্টা করে পরস্পরের সাথে খুশিতে মেতে থাকতে । রমজানের এই মাসটিকে সিয়ামের মাস বলা হয়। সিয়াম মানে সংযম। ইসলাম ধর্মাবলম্ভী রোজাদাররা পরম নিষ্ঠার সাথে সংযম পালনের মধ্য দিয়ে উনত্রিশ ত্রিশটি দিন অতিবাহিত করেন। ফজরের নামাজের পূর্ব হতে দিনের বেলার পুরোটা সময় সব রকম পানাহার থেকে বিরত থেকে ধৈর্য্যের সাথে রোজা (বা উপবাস ) পালন করা হয়। এই মেনে চলা , আত্মার উৎকর্ষতা সাধনে সাহায্য করে। মনে আনে পরম করুণাময়ের প্রতি অগাধ ভালবাসা। মানুষে মানুষে জাগায় বিনয় , সহমর্মিতা। ঈদের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটিতে বাস্তবিক অর্থেই সবাইকে মহামিলনে অংশীদার হতে আহ্বান করা হয়েছে। ভ্রাতৃত্ব ও সৌম্য কামনা করা হয়েছে। দিনটিতে চারিদিকের পুরো পরিবেশটাই যেন বদলে যায় । মনে হয়না মানুষের মনে কোনো রকম কষ্ট আছে। শুধু আনন্দ আর আনন্দ যেন ছড়িয়ে থাকে সর্বত্র। আমি যখন এই লেখাটি তৈরী করছিলাম তখন অত্যন্ত ভয়ংকর এক খবর পেলাম। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ঘটে গেছে এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা। সেনা বাহিনী, পুলিশ সতর্কাবস্থায়। এই ধ্বংসাত্মক রক্তক্ষয়ী ঘটনায় যারা জড়িত তারা মানবতা ও শান্তি বিনষ্টকারী। ঈদ যখন দ্বার প্রান্তে এই মর্মান্তিক ঘটনা তখন ঘটলো । আমরা মর্মাহত হয়েছি। আশ্চর্য হয়েছি। আতংকিত হয়েছি। তবুও ঈদকে সামনে রেখে বলতে চাই সব অমানিশা কেটে গিয়ে ঈদ হবে। দেশে , পৃথিবীতে শান্তি আসবেই । আসুন সবাই সাহস সঞ্চয় করি এক হই।