| |

লাকী আকন্দ: এক কালজয়ী শিল্পীর কথা

কেশব করঃ সুরকার ,সংগীত পরিচালক ও গায়ক লাকী আকন্দের সাথে আমি কথা বলেছি । এক সাথে আমাদের রেষ্টুরেন্টে (যৌথ মালিকানা) কফিসহ নাস্তা হয়েছে ।একসাথে সেলফি তুলেছি। সংগীতের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছি। তাঁর কথায় ক্ষোভ ছিল আক্ষেপ ছিল আবার আশাও ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ব্যক্তি ও পারিবারিক নানা বিষয়ে আলাপ করেছি। খুব সুন্দর করে গুছিয়ে ব্যক্তিত্ত্ব নিয়ে কথা বলেন তিনি। আমি ভাগ্যবান তাঁর মতো একজন সুকণ্ঠ গুনী শিল্পীর সাথে কথা বলতে পেরেছি। পরিচিত হতে পেরেছি। আমাকে বলেছিলেন টিভিতে ‘রাত বিরাতে’ একটি অনুষ্ঠান হয় । কবি আসাদ চৌধুরীর উপস্হাপনায়। কেশব দা চলেন আমার সাথে ঢাকায়। দেখবেন সব। ময়মনসিংহে আসতেন ব্যক্তিগত কাজে। এক সিনিয়র বন্ধু লোকমান ভাইয়ের মাধ্যমে পরিচয়। আমি সংগীত পিয়াসী মানুষ। আমার ঐ বন্ধুটি তাঁকে এই কথা বলেছিল। শুনে আমার সম্পর্কে আগ্রহ দেখান। আমি একটি নজরুল গীতির দু’টি লাইন তাঁকে শোনাই। তিনি বলেন হারমোনিয়াম ছাড়া গান গেয়েছেন আপনি। বুঝা যায়। আপনার কণ্ঠ ভাল। গীটারে এডজাস্ট করে দিলেই হবে। মাঝখানে হঠাৎ যোগাযোগ নেই। আমিও বিদেশ সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। তারপর হঠাৎ একদিন শুনি। তিনি খুব অসুস্হ। থাইল্যাণ্ডে গেছেন চিকিৎসার জন্য। পরে জানলাম ফুসফুসের জটিলতা এখন ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি। অবস্হা নাকি খুব একটা ভাল না। চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো অতোটা আর্থিক সঙ্গতি নেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থাইল্যাণ্ডে থাকাকালীন এই যশস্বী শিল্পীকে একবার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন। আরো অনেক অর্থের প্রয়োজন। তিনি একাধারে একজন মুক্তিযোদ্ধা ,সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক। অনেক স্মরণীয় গানের তিনি স্রষ্টা ! আমাদের সকলের প্রিয় এই প্রচার বিমূখ ‘এই নীল মণিহারে’র শিল্পীর জন্য আমি সকলের সহযোগিতা চাইছি। সরকারকে বলবো আবারো তাঁর পাশে দাঁড়াতে। লাকী আকন্দের মতো শিল্পীরা বার বার আসে না। আমরা হ্যাপি আকন্দ (লাকী আকন্দের ছোট ভাই )কে হারিয়েছি। কি চমৎকার গাইতেন তিনি  ১৯৮৭ সালে ছোট ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে খুব ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি। তখন মনোকষ্টে সংগীত জগত থেকে প্রায় সড়েই গিয়েছিলেন। আপনারা যারা লাকী আকন্দ ও হ্যাপী আকন্দের গান শোনেননি , অনুরোধ করবো শুনতে। শুনলেই বুঝতে পারবেন কি দিয়েছেন এই দু’ভাই আমাদের। আমি লাকী আকন্দের আশু রোগমুক্তি কামনা করছি।