| |

ময়মনসিংহের হ্যাজাক বাতি

মনোনেশ দাসঃ ময়মনসিংহে এক সময় ছিল হ্যাজাকের ব্যাপক ব্যবহার । আধুনিক ছোঁয়ায় বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহারের কারণে হ্যাজাকের প্রচলন এখন প্রায় শূণ্যের কোঠায়। জানা যায়, ব্রিটিশ, পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশে ৯০ এর দশক পর্যন্ত ছিলো হ্যাজাক বাতির রমরমা ব্যবহার। হ্যাজাক বাতির আলোয় আলোকিত হতো গ্রাম বাংলা । বিয়ে, নাটক-যাত্রাসহ সামাজিক যে কোন অনুষ্ঠানে হ্যাজাকের বিকল্প ছিলো না । একটি হ্যাজাক বাতিতে ৩কেজি তেল ভড়া হলে চলতো সারারাত।

ম্যানটেনে জ্বলে উঠতো হাজার পাওয়ারের বৈদ্যুৎতিক বাতির মত উজ্বল আলো । আলো উজ্বল করতে দেয়া হতো পাম । হ্যাজাক ভাড়ার ব্যবসাও ছিলো জমজমাট ।

এখন আর হ্যাজাক ব্যবহার করতে দেখা যায় যায় । কিছু ক্যানভাসার এখনও হ্যাজাক ব্যবহার করেন । হ্যাজাক ব্যবহারকারীরা জানান, খুচরা যন্ত্রাংশ সচারাচর পাওয়া যায় না । কিছু নির্দিষ্ট দোকানেই মেলে ম্যান্টেনসহ যন্ত্রাংশ । তাছাড়া আগের মত ব্যবহার না হওয়ায় হ্যাজাকসারাইয়ের মিস্ত্রিও আগের মত নেই ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ,বাতির সমার্থক শব্দ হল প্রদীপ এবং ইংরেজি শব্দ Lamp বাতি এক প্রকার সরঞ্জাম । বাতির ব্যাবহার অতি প্রাচীন। সাধারণত বাতি বলতে বুঝায় কুপি, টর্চ লাইট, হ্যারিকেন লন্ঠন, হ্যাজাক । বাতি হল সেই সরঞ্জাম যা অন্ধকার দূর করতে ব্যাবহার করা হয় । প্রাচীনকালে আগুনের ব্যবহারের মাধ্যমে বাতির প্রচলন হয় ।

অতীতে লাইট হাউসের বাতির মাধ্যমে সমুদ্রের জাহাজের দিক নির্দেশনা দেওয়া হত ।প্রাচীন কালে যে সকল বাতি খনিজ তেল এবং প্রাণীজ তেলের ধারা ব্যবহার করা হত তা হল । খনিজ তেলের মধ্যে কেরোসিন তেল অন্যতম ।

কেরোসিন কুপি, হ্যারিকেন, মশাল, হ্যাজাক এসব বাতির প্রধান জ্বালানি ছিল কেরোসিন তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রাণীজ উদ্ভিদ তেল ব্যবহৃত হত।বিজ্ঞানের উন্নয়নের ফলে বর্তমানে অনেক প্রকার বাতির আবিষ্কার হয়েছে। বর্তমানে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যাপক ব্যাবহার হয় । আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে বাতির কর্ম ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে ।টিউব লাইট,বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই বাতি, হ্যালোজেন লাইট, ফ্লুওরসেন্ট লাইট, রাসায়নিক বাতি, সাধারণ বাতি, স্প্রিট ল্যাম্প, মোম বাতিঅন্ধকার দূর করণে বাতির ব্যাবহার সার্বজনীন ।

স্থান কাল ভিন্নতার কারণে বাতির বেবহারে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায় । গৃহে গৃহে সাধারণত কম আলো প্রদানকারী বাতি ব্যাবহার হয় । প্রাচীনকালে গৃহে তেল ধারা চালিত বাতি ব্যাবহার করা হত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কুপি এবং হারিকেন বাতি । বর্তমানে গৃহে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বাতি ব্যাবহার হয় । বিদ্যুৎ শক্তির একক অনুযায়ী গৃহে ৫০ওয়ার্ড এর কম শক্তির বাতি ব্যাবহার হয় ।

শিল্প কারখানায় শিল্প কারখানায় অতি উজ্জ্বল আলোর প্রয়োজন হয় তাই এখানে বৈদ্যুতিক বাতি প্রধান উৎস। শিল্প কারখানায় উচ্চ শক্তির বাতি ব্যাবহার হয় ।সঙ্গীত এবং সিনেমায় কিছু ইংরেজি সঙ্গীত ও সিনেমায় বাতি শব্দটির ব্যাবহার হয়েছে এছাড়া সিনেমা জগতে লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন বলে চিত্র ধারণ করা হত । কিছু আঞ্চলিক গানের কথায় বাতি শব্দটি উল্লেখ আছে।সূত্রঃ বিডি নিউজ ব্লগ।