| |

পুলিশ হয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়ার দৃষ্টান্ত এসপি মঈনুল হক

স্টাফ রিপোর্টাঃ বাংলাদেশের মানুষ পুলিশ নাম শুনলে আশ্বস্থ কিংবা নিশ্চিন্ত হওয়ার পরিবর্তে ঘুষ বা অযথা হয়রানীর অজানা ভয়ে আতকে উঠেন ।আর সেখানে শান্তি,নিরাপত্তা ও বিশ্বস্থতার এক বিমুর্ত প্রতীক গোটা পুলিশ বিভাগের জন্য অনুকরনীয় ব্যতিক্রমী এক পুলিশ অফিসার হলেন ময়মনসিংহ জেলার বিদায়ী পুলিশ সুপার মঈনুল হক । সহকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত মঈনুল হকের ভক্তরা বলেছেন, একজন সরকারি অফিসার সততার সাথে তার দায়িত্ব পালন করলে তিনি যে গনমানুষের হ্নদয়ে স্থান করে নিতে পারেন, তার প্রমাণ আমাদের ময়মনসিংহ জেলার বিদায়ী পুলিশ সুপার মঈনুল হক।

উনার বিদায়ে পুরো ময়মনসিংহবাসী ব্যথিত যার প্রমাণ বিদায়ি সংবর্ধনায় উপস্থিত মানুষের চোখে মুখের অভিব্যক্তি। ইতিপূর্বে উনার বিদায়ী সংবর্ধনাগুলিতে কোন অফিসারের বিদায়ে এত ভালবাসা এ জেলার মানুষ আগে দেখেনি। গতকাল শুক্রবার কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ আয়োজিত থানার ওসি কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে  বিদায়ী সংবর্ধনায় বিদায় জানান, জেলা পুলিশের সিনিয়র এএসপি সদর সার্কেল আব্দুর রশীদসহ এএসপি, থানার এসআইবৃন্দ এবং উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রদীপ ভৌমিক, আজগর হোসেন রবিন , নজরুল ইসলাম, খায়রুল আলম রফিকসহ সাংবাদিকবৃন্দ ।

এসময় তারা বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এরকম সৎ ও সাহসী মানুষ হিসেবে টিকে থাকতে সক্ষম হবেন পুলিশ সুপার মঈনুল হক।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিতগণ অনেকেই বলেছেন,বিদায় শব্দটা খুব বেদনাময়, পৃথিবীতে কোন বিদায়ই সুখের নয় আমাদের প্রানপ্রিয়, স্বনামধন্য, সুযোগ্য, কর্তব্যপরায়ণ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ তথা সমগ্র ময়মনসিংহ জেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রিয় মানুষ মঈনুল হকের বদলি সুত্রে আজ আমাদের হৃদয়কে দ্বীখন্ডিত করে দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছেন তিনি । আমরা সবাই শোকাহত । আল্লাহর কাছে সকলে দোয়া করি আল্লাহ যাতে উনাকে এবং উনার পরিবারের সকল সদস্যদের ভালো রাখেন এবং নতুন কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে তিনি যোগদান করে দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারেন ।

উপস্থিত একজন বললেন, বিদায়ী ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হকের সকল উদ্ভাবনী চিন্তাধারা আর কাজের মাধ্যমে মানুষের মনের গহীনে জায়গা করে নিয়েছেন ।  হয়ত তিনি নিজেও এতটা ভাবতে পারেননি, যারা ভাল কাজ করে তারা এমনিতেই জনপ্রিয় হয়ে যান । উনার একজন সহকর্মী বললেন, জীবনের কোন এক শুভলগ্নে আপনাকে কাছাকাছি পেয়েছিলাম । আপনার আপন শুণে আমাদের আপন করে নিয়েছিলেন। কর্মচারী যে কর্মকর্তাদের এত কাছের মানুষ হতে পারে আমি আগে তা জানতাম না । কর্তব্যের শুরভার বহন করেন কর্মচার্ ীও তার সমস্যাকে বুঝবার চেষ্টা স্যারের মধ্যে দেখেছিলাম । শুধু কর্মক্ষেত্র নয় সহানুভূতির হাত বাড়িয়েছে অনেকের ব্যক্তি জীবনে ।

স্যারের কর্ম ও চেতনা আমরা ধরে রাখতে পারব কিনা তা জানিনা । বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সুদক্ষ কর্মকর্তা হিসাবে স্যারের যে সততা-সত্যবাদিতা তা চিরকাল আমাদের অনুপ্রানিত করবে চাকরি ও ব্যক্তি জীবনে। জীবনের কঠির সংগ্রামকেও  কত সহজে ও সাবলীলভাবে স্যার আমাদের নিয়ে অতিক্রম করেছেন। আর আমাদেরও সবসময় মানব সেবার জন্য উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিল।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বললেন,আসলে আমাদের জীনটাই এই রকম । এক সময় দিনের সব চঞ্চলতা থেমে যায় আসে সন্ধ্যা- ঘন কালো রাত্রি। জীবনের সব লেনা-দেনা এক সময় শেষ হয়ে যায়। বাজে বিদায়ের ঘন্টা । এই ধারাবায়িকতা সাথে আমাদের পুলিশি চাকরী জীবনে দেশের স্বার্থে, জনস্বার্থে বদলী হতে হয় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে । কিন্তু থাকে আমাদের কর্মজীবনে ঘটে যায় যনানা ঘটনা ।

অধিকাংশরাই বললেন, ঠিক তেমনী আমরা সবাই ময়মনসিংহ জেলার সকল স্তরের মানুষ স্যাকে মনে রাখবে সব সময়। স্যার আমাদের কাছে না থাকলেও মনে মনে জানবো স্যার আছে আমাদের হৃদয়ের গভীরতার গভীরে । আমারা সকলের কাছে আহবান জানাই,  এই ভালো মানুষের জন্য । অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ বলেছেন, মানুষ ভাল কাজ এবং ভাল মানুষকে সম্মান জানাতে পারে, বিদায়ী পুলিশ সুপার মঈনুল হক কর্মদক্ষতার মধ্য দিয়ে মানুষের মন জয় করেছে। উনার প্রতি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুভ কামনা থাকবে সবসময়। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কতটা জনসম্পৃক্ত হলে জনবান্ধব হলে মানুষ তাদের বিদায় জানাতে ব্যাকুল হয়ে উঠে তা দেখেছেন  মঈনুল বিদায়ের প্রতিটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ের মানুষের ভালবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত ।

মঈনুল হক একজন যোগ্য পুলিশ সুপার ছিলেন। তিনি জেলার সকল পুলিশের অধিকর্তা এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান হিসেবে সকলের সাথে সমন্বয় রেখে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। জনগণের জন্য যা প্রয়োজন তিনি তা করে গেছেন। তার ভাল কর্মগুলো ইহকালে নয়, পরকালেও তাকে স্বীকৃতি ও শান্তি দেবে। ময়মনসিংহের মানুষ ভালবাসা দিতেও জানে নিতেও জানে, কোতোয়ালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের একটি সফল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই প্রমাণ রেখেছে। মানুষকে ভালবেসে ভাল কাজের স্বীকৃতি বিদায়ী পুলিশ সুপার মঈনুল হক পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে সকলেই ময়মনসিংহ জেলাবাসীর পক্ষে তাদের উত্তরোত্তর সুখ সমৃদ্ধি সাফল্য কামনা করেছেন । অনুষ্ঠানে বিদায়ী সুযোগ্য পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেছেন,  মানুষকে আমি মন থেকে ভালবেসেছিলাম, এ জেলার জন্য সাধ্যমত যা কিছু করার তা করেছি, আমার সহকর্মীদের সহায়তা পেয়েছি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। এখানে যা কিছু করেছি এর মূল্যায়ন শেষ বিচারের সময়েও পাব এই প্রত্যাশা করি। আমি ময়মনসিংহকে কোনদিনও ভুলতে পারবো না। এখানকার মানুষের ভালবাসার কাছে আমি ঋৃনী । চাকুরীজীবনে এই ময়মনসিংহে এসে এখানকার মানুষের ভালবাসাসিক্ত হয়েছি এটি সৌভাগ্যের প্রাপ্তি ।ময়মনসিংহের মানুষ ভাল কাজ এবং ভাল মানুষকে সম্মান দিতে জানে এর দৃষ্টান্ত দেখেছি পেয়েছি যা ভুলার নয়।