| |

বাসা তৈরির শ্রেষ্ঠ কারিগর বাবুই-টুনটুনি

মনোনেশ দাস, দৈনিক শাশ্বত বাংলা

বড় বড় পাখিদের ভিড়ে ছোট পাখিদের কোলাহল নিতান্তই মামুলি বিষয় নয়। তাল, সুপারি ও নারকেলের সুউচ্চ পত্র-পল্লবে বাবুই পাখিদের বাসা বোনার কিচির-কিচির গান পথিকের দৃষ্টি কাড়ে। ঝোপ- ঝাঁড়ে টুনটুনির একটানা টিউ টিউ কলরব গ্রাম-বাংলার মানুষের আশৈশব পরিচিত বিষয়।

টুনটুনি বাচ্চা নিয়ে আমগাছের ছোট ছোট পোকা ধরে খাওয়ায়। বাসা বোনার দক্ষতায় বাবুই পাখি শ্রেষ্ঠ কারিগর। খেজুর, তাল, সুপারি ইত্যাদির পাতা সরু করে ছিঁড়ে এরা বাসা বাঁধে। বাসার মধ্যে দুটি চেম্বার বা তলা রয়েছে। বাবুই পাখির বাসা নিয়ে অনেক কিংবদন্তি রয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহে।

লোককথায় আছে, পুরুষ বাবুই কষ্ট করে বাসা বাঁধে, মাদী বাবুই পছন্দ হলে ওই বাসায় আসে। বাসার মধ্যে সামান্য কাদা এনে তাতে একটা জোনাকি পোকা পুতে দেয় এতে রাতে বাসা আলোকিত হয়। এসব তথ্য সত্যি না হলেও, গ্রামের মানুষ তা বিশ্বাস করে। ঝড়ের দিনে বাবুইয়ের অনেক বাসাই ছিঁড়ে যায়; তারা আবারও বাসা বাঁধে।

জবা, রঙ্গন, কুডুরা ইত্যাদি বড় পাতার গাছের ২-৩ টি পাতা একত্রে সেলাই করে টুনটুনি বাসা বাঁধে। মাকড়সার জালের সুতা দিয়ে এরা পাতা জোড়া লাগায়। এরপর যেসব গাছের তুলা জাতীয় জিনিস জন্মে সেসব গাছ থেকে তুলা এনে বাসার মধ্যে নরম পরিবেশ তৈরি করে। এরপর মাত্র দুট ডিম পাড়ে বাসায়।সূত্রঃ ঢাকা টাইমস।