| |

শেরপুরে অটোরিকশা বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  শেরপুরে অটোরিকশা বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাওলানা আক্কাস আলী (৫৫) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আক্কাস নালিতাবাড়ীর কলসপাড় নঈমী মাদ্রাসার সুপার ও সদর উপজেলার বুড়িয়ারপাড় গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে ছিলেন।

 

১৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার বুড়িয়ারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে আক্কাস আলী বুড়িয়ারপাড় গ্রামের আনার আলীর নিকট একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিক্রি করেন। ওই অটোরিকশাটি আনার আলী আবার একই গ্রামের রুবেলের নিকট বিক্রি করেন। কিন্তু আনার আলীর নিকট অটোরিকশাটি বিক্রি করার সময় আক্কাস আলী কোন দলিল করে দেননি।

 

এ নিয়ে মাঝেমধ্যে আক্কাসের সঙ্গে আনারের বাগবিতন্ডা হতো। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাত আট টার দিকে আক্কাছ আলী অটোরিকশা যোগে বাড়ি ফেরার পথে আনার আলী ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী লিখিত দলিল করে দেওয়ার জন্য আক্কাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। দলিল পরে করে দেবেন-এ কথা বললে আনার আলী ও তাঁর সহযোগীরা আক্কাসকে অটোরিকশা হতে নামিয়ে বুড়িয়ারপাড় গ্রামের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান এবং বুকে-পিঠে কিলঘুষিসহ বেদম মারপিট করেন।

 

এতে আক্কাস আলী সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজন তাঁকে উদ্ধার করে খরখরিয়া বাজারের পল্লী চিকিৎসক ছোটনের ফার্মেসিতে নিয়ে যান। পল্লী চিকিৎসক ছোটন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আক্কাস আলীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে আনার আলীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শহিদুল ইসলাম ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।