| |

নাসিরাবাদ কলেজে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার

দৈনিক মাটি ও মানুষ পত্রিকা ও ফেইজবুকে নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়ের সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল সকাল ১১টায় নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহের ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারী এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের উদ্যোগে কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহের উপাধ্যক্ষ আহমেদ শফিক এর সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক মওদুদ আহমেদ এর পরিচালনায় ২ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রেজাউল কবীর, অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, অধ্যাপক হাসান ইমাম, অধ্যাপক মো: জালাল উদ্দিন, অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ, অধ্যাপক তাসলিমা বেগম, অধ্যাপক তানজিনা এলিনা, অধ্যাপক ফোরকান, অধ্যাপক খন্দকার হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ইলিয়াস কাঞ্চন, কর্মচারী মো: নুরুল ইসলাম, ছাত্রী বাহিজা আক্তার, ছাত্র মাহমুদুর রহমান, মো: শিহাব, মো: দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

বক্তাগন বলেন, দৈনিক মাটি ও মানুষ পত্রিকাটি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিউজ করেছে কিন্তু ঐ পত্রিকার সাংবাদিক অধ্যক্ষের সাথে কথা বলা বা কোনরূপ তথ্য যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন মনে করেনি। তারা পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল সহ পত্রিকা ও রিপোর্টারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানান। তারা দাবী করেন, অনতি বিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। কলেজ থেকে লেখাপড়া ছেড়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

শিক্ষকগন বলেন, কলেজের ১৪ বছরের প্রভিডেন্ট ফান্ড বন্ধ ছিল। ২৪ মাসের বেতন বন্ধ ছিল। বেতন ভাতাও নিয়মিত পরিশোধ হতো না সেই অবস্থা থেকে বর্তমান কলেজ অধ্যক্ষ কলেজের সকল পরিবেশ সুন্দর করেছেন। এই সুন্দর পরিবেশকে কুলষিত করার জন্য একটি কুচক্রি মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে আর সেই কুচক্রি মহলের ফাঁদে পা দিয়েছে পত্রিকাটি। উপস্থিত সকলেই অনতি বিলম্বে পত্রিকায় ক্ষমা চেয়ে প্রতিবাদ ছাপার আহবান জানান। তারা বলেন, অনতি বিলম্বে প্রতিবাদ ছাপা না হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করতে বাধ্য হবে। তারা বলেন, অতীত থেকে বর্তমান অবদি কলেজটি যথেষ্ট সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে কলেজে ১০টি বিষয়ে আনার্স খোলা হয়েছে। পাশাপাশি ৩টি বিষয়ে অনার্স খোলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা বলেন, ৮৮ সনে দেশের বিভিন্ন স্থানের মত এই কলেজেও অশ্রের ঝনজনানি ছিল। সেই কলেজকে রাজনীতি মুক্ত পরিবেশ করে শিক্ষার পরিবেশে রূপান্তর করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য কলেজের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের বেতন তুলনামুলক ভাবে কম নেয়া হচ্ছে।

এদিকে মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকগন কলেজ অধ্যক্ষ মো: আশরাফ উদ্দিন এর সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের সাথে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমি ১৯৮৭ সনে প্রভাষক হিসাবে নাসিরাবাদ কলেজে যোগদান করি। ২০০১ সনে উপাধ্যক্ষ হিসাবে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তখন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ছিলেন মো: ময়েজ উদ্দিন। দীর্ঘ সময়ে কলেজের সংকটকাল অতিক্রান্ত করতে গিয়ে আমাকে ৩বার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হিসাবে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় ধর্মমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মতিউর রহমান মহোদয় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন সময় কলেজের ফান্ডের আর্থিক দুরবস্থা ছিল। শিক্ষক, কর্মচারীরা ঠিকমত বেতন ভাতা পেতেন না। পরবর্তীতে কলেজে অনার্স খোলার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। মাননীয় ধর্মমন্ত্রী মহোদয় এর বিশেষ উদ্যোগে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স খোলা সম্বব হয়েছে। কলেজ পরিচালনার এক পর্যায়ে ছাত্র হোষ্টেল সন্ত্রাসী কর্তৃক দখল হয়ে গিয়ে ছিল। আমি শিক্ষকদের নিয়ে ছাত্র হোষ্টেল উদ্বার করি। পরবর্তীতে গভনিং বডির পরিবর্তন হয়। গভনিং বডির বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এর বারবার নির্বাচিত প্রতিথযশা ব্যবসায়ী নেতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো: আমিনুল হক শামীম সাহেব।

তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৪ বছরের প্রভিডেন্ট ফান্ড ২৪ মাসের বকেয়া বেতন দিয়েছি। তাতে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক ও কর্মচারীগন ভাল বেতন পাচ্ছেন, তারা সবাই ভাল আছেন। পাশাপাশি কলেজের সাধারন ফান্ডে আনুমানিক ৩ কোটি টাকা জমা রয়েছে। তিনি বলেন, সামনে জিবি নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে নিয়ে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ফেইজবুক সহ পত্রপত্রিকায় নানা কথাবার্তা লেখালেখি হচ্ছে। মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয় সে জন্য কলেজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্য ও ভুল তথ্য পরিবেশন হতে বিরত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

তিনি জানান, গত নির্বাচনের সময় ৪০/৫০ জন লোক এসে আমার বাসা ঘেড়াও করে। বাসায় গিয়ে আমাকে খোজাখুজি করে। তারা আমার স্ত্রীকে পিস্তল দেখায়। এহেন পরিবেশ দেখে আমার ভয়ে সন্তানরা কবুতরের বাচ্চার মত কাঁপতে থকে। পরে থানায় জিডি করা হয়। একটি সুত্র জানায়, যে কলেজের গভনিং বডির সভাপতি ছিলেন মাননীয় ধর্মমন্ত্রী মহোদয়, জেলা প্রশাসক, বর্তমানে আমিনুল হক শামীম সাহেবের মত লোক। পাশাপাশি গভনিং বডির সদস্য হলে ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু, অধ্যাপক আমীর আহমেদ চৌধুরী রতন, ড. আহসান বিন হাবিব সহ গন্যমান্য ব্যক্তি।

জানাগেছে, আগামী ২৪ আগষ্ট‘১৭ কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন। ইতিমধ্যে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষনা করা হয়েছে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষক প্রতিনিধি, বিদ্যুৎশাহী সহ বিধি মোতাবেক গভনিং বডি মনোনীত সদস্যগন এর সমন্বয়ে কমিটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরন করা হবে।