| |

ছেলের জন্য অপেক্ষা, রাজ্জাকের দাফন হচ্ছে না আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের দাফন আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর ছেলে বাপ্পি দেশের বাইরে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নায়করাজের পরিবারের পক্ষ থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু এনটিভি অনলাইনকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নায়করাজ রাজ্জাকের মেজো ছেলে বাপ্পি বিদেশে অবস্থান করছেন। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও তিনি টিকেট পাচ্ছিলেন না দেশে আসার।’

খোরশেদ আলম জানান, আজ বিকেলে বাপ্পির সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দেশে ফেরার টিকেট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৫টায় বাপ্পি বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। এ কারণে আজ নায়করাজের দাফন হচ্ছে না। বাপ্পি দেশে ফিরলে আগামীকাল সকাল ১০টার আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বনানী কবরস্থানে রাজ্জাকের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান রাজ্জাক। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। এরপর আজ সকালে এফডিসিতে নেওয়া হয় রাজ্জাকের লাশ। সেখান প্রথম জানাজা শেষে দুপুর ১২টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানায় নায়করাজকে।

নায়করাজ রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান ভারত) কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সরস্বতী পূজা চলাকালীন মঞ্চনাটকে অভিনয়ের জন্য তাঁর শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক, অর্থাৎ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক ‘বিদ্রোহী’তে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নায়করাজের অভিনয়-জীবন শুরু। ১৯৬৪ সালে রাজ্জাক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন।

চলচ্চিত্রকার আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ‘তের নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। এরপর ‘কার বউ’, ‘ডাক বাবু’তেও অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম ছবি জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’। সেই থেকে তিনি তিন শতাধিক বাংলা ও কয়েকটি উর্দু চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। পরিচালনা করেন ১৬টি চলচ্চিত্র।

নায়ক রাজ্জাকের অভিনয় করা উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে—বেহুলা, আগুন নিয়ে খেলা, দর্পচূর্ণ, এতুটুকু আশা, নীল আকাশের নিচে, কখগঘঙ, জীবন থেকে নেয়া, নাচের পুতুল, অশ্রু দিয়ে লেখা, ওরা ১১ জন, অবুঝ মন, রংবাজ, আলোর মিছিল, শুভ দা, অভিযান, যোগাযোগ, অন্ধবিশ্বাস, টাকা আনা পাই, ছন্দ হারিয়ে গেল, মানুষের মন, অতিথি, যোগ বিয়োগ, মধু মিলন, যে আগুনে পুড়ি, দুই পয়সার আলতা, অনেক প্রেম অনেক জ্বালা, দ্বীপ নেভে নাই, পীচঢালা পথ, দুই ভাই, আবির্ভাব, বন্ধু, বাঁশরী, আশার আলো, কে তুমি, মতিমহল, আনোয়ারা, নাত বউ, অবাক পৃথিবী, কি যে করি, গুণ্ডা, অনন্ত প্রেম, অশিক্ষিত, ছুটির ঘণ্টা, মহানগর, বড় ভাল লোক ছিল, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, স্বরলিপি, বাঁদী থেকে বেগম, বাবা কেন চাকর।