| |

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তর অঞ্চল বিশেষ করে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি অব্যাহত থাকবে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে রোববার এই তথ্য জানিয়েছে। সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, পদ্মা নদীর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের জেলা মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুঞ্জিগঞ্জ, শরীয়তপুর নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিও উন্নতি অব্যাহত থাকবে। মধ্যাঞ্চলের ঢাকার চতুর্দিকের নদীসমূহ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, টুংগিখাল, বালু, শীতলক্ষা নদী বিপদসীমার যথাক্রমে ১০৫ সে.মি, ১৬ সে.মি, ১ সে.মি, ২৬ সে.মি এবং ৬ সে.মি

নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢাকার চতুর্দিকের নদীগুলোর পানি সমতল আগামী ৪৮ ঘন্টায় হ্রাস পাবে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি অব্যাহত থাকবে। ঢাকার চতুর্দিকের নদীগুলোর পর্যবেক্ষণাধীন অধিকাংশ পয়েন্টে পানি সমতল কমতে শুরু করেছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। মেঘনা অববাহিকার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোববার সকাল ৬টা থেকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারতীয় অংশের ধুবরী পয়েন্টে আগামী ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ২১ সেমি. পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলও আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। মেঘনা অববাহিকার নদীসমূহের মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা পানি আগামী ২৪ ঘন্টায় বৃদ্ধি পেতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, গঙ্গা- ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা এই তিন অববাহিকার মধ্যে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে, অপরদিকে মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় অংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে বিগত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর ভারতীয় অংশের গোহাটিতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৮০ কি.মি. উজানে) ১৫ সে.মি, পান্ডুতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৬০ কি.মি. উজানে) ১২ সে.মি, গোয়ালপাড়া (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ৯০ কি.মি. উজানে) ১২ সে.মি, এবং ধুবরী (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ২৫ কি.মি. উজানে) ১৩ সে.মি পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে । বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল নুনখাওয়া, চিলমারী, বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে হ্রাস অব্যাহত আছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।