| |

ময়মনসিংহে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর ইজ্জত হননের চেষ্টাঃ মা মেয়ে আহত

স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহ সদরের শম্ভূগঞ্জস্থ রঘুরামপুর সবজিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আমজদ আলী বেপারীর পুত্র মোঃ ফকর উদ্দিন ও তার তিন ভাইয়ের ঘরবাড়ী ভাংচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফকর উদ্দিনের মেয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী রিক্তাকে অপহরণ করে ইজ্জত হননের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার কারণে দুর্বৃত্তরা বর্বরোচিত হামলা করে মা মেয়েকে গুরুতর আহত করেছে।

আহতরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১নং ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় ফকর উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা হচ্ছে আমিন মিয়া, জাকারিয়া, স্বপ্না, মিজান, সুমন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন। মামলার এজাহারে বলা যা বলা হয়েছে তা হচ্ছে-আসামীরা একই পরিবারভূক্ত, সঙ্গবদ্ধ, দাঙ্গাবাজ, পরধনলোভী, চরিত্রহীন, নারী লিপ্সু, অবৈধ মাদক বিক্রেতা ও জুয়া পরিচালনাকারী। ঝগড়া ফ্যাসাদ ও মারামারি এদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নাজেহাল হতে হয়। ফলে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। বাদীর মেয়ে মোছাঃ রিক্তা বেগম (১৩), সে স্থানীয় শম্ভূগঞ্জ ইউসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। বেশকিছু দিন যাবত আসামী জাকারিয়া বাদীর মেয়েকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে উত্যক্ত করছে এবং কুপ্রস্তাব দিচ্ছে। এতে সাড়া মিলে নাই।

গত ০৫/০৯/২০১৭ ইং তারিখ মঙ্গলবার সময় অনুমান সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় বাদীর হারিয়ে যাওয়া একটি ষাড় বাছুর খোঁজার জন্য তার মেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ীর আঙিনায় আসতেই আসামী জাকারিয়া তার মেয়েকে তার বাড়ীর পূর্বপাশ থেকে বলপূর্বক ধরে নিয়ে পশ্চিমে রাস্তার পাশে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইজ্জত হননের অপচেষ্টা চালায়। মেয়ে ইজ্জত রক্ষা ও প্রানভয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করতে থাকে। এ সময় মেয়ের মা হালিমা খাতুন মেয়ের চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। মেয়ের ইজ্জত হনন করতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে থাকা রাম দা দিয়ে মেয়ের মাথা লক্ষ্য করে স্বজোরে কোপ মারে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মেয়ের মা রাম দায়ের কোপ ফিরাতে গিয়ে তার বাম হাতের মধ্যবর্তী তিনটি আঙ্গুল মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং রক্তাক্ত জখম হয়। দায়ের কোপ মেয়ের মাথার ডান পাশে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। উভয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সকল আসামীরা জাকারিয়ার পক্ষালম্বন করে ঘটনাস্থলে এসে বাদীর স্ত্রী ও কন্যাকে তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। এতে উভয়ের গায়ের বিভিন্ন স্থানে বেদনাদায়ক ফোলা জখম হয়েছে। আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়ীতে চড়াও হয়। ঘরবাড়ী ভেঙ্গে তছনছ করে। তাদের ঘরে থাকা সুকেসের তালা ভেঙ্গে ৫০ হাজার টাকা আসামী আমিন মিয়া লুট করে। মেয়ের কানে থাকা ৩ আনি ওজনের স্বর্ণের রিং যার আনুমানিক মূল্য ৯ হাজার টাকা ও হালিমার কানে থাকা ৪ আনি ওজনের স্বর্ণের রিং যার আনুমানিক মূল্য ১২ হাজার টাকা মাটিয়ে লুটিয়ে রক্তাক্ত জখমী অবস্থায় পড়ে থাকার সময় আসামী স্বপ্না ছিনিয়ে নেয়। আসামী সুমন ও মিজান বাদী ও বাদীর সহোদর ৩ ভাইয়ের ঘরবাড়ী কুপিয়ে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করেছে। বাদীর সহোদর ভাই আব্দুস সাত্তার, হযরত আলী ও আব্দুল কাদিরের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে তছনছ করে মোট ৪টি ঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট ও ভাংচুরের কারণে তাদের অনুমান ২ লক্ষ টাকার সম্পদের ক্ষতি সাধন হয়েছে। চরম অসহায় হয়ে ঘরবাড়ী ছেড়ে তারা ভয়ভীতিতে আছে। রক্তাক্ত জখমী মা ও মেয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১নং ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।

উল্লেখ্য, আসামীরা বেসামাল হয়ে গতকাল সকাল অনুমান ৯টায় রিক্তার চাচা আব্দুস সাত্তারকে খুন করার উদ্দেশ্যে আবারও সশস্ত্রে হামলা চালায়। হামলাকারীদের অস্ত্রাঘাতে সাত্তারের ডান হাত কেটে গেছে। সারা দেহ রক্তাক্ত জখম হয়েছে। মাটিতে লুটিয়ে থাকা অজ্ঞান অবস্থায় তার আত্মীয় স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাতপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। সে ৯নং ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মীরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আমি বিস্তারিত কিছু জানি না, তবে বিষয়টি আমি দেখব। সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মানিক মিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ঘটনাটি সত্য এবং অমানবিক। আসামীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।